আমার পাঁচটি কবিতা
১.
প্রেম এবং
আমার তিনশ' গ্রাম ওজনের নরম হৃদয়টাতে
লিখবো না আমি তোমাকে!
সিগারেটের ভদ্র ধোঁয়ার পরশে
মিশে যাবে, মুছে যাবে কিংবা যাবে গলে;
যদিও এ ধোঁয়া ঢুকে নি কভু সেখানে।
কিন্তু ঢুকতে কতক্ষণ তোমার অকাল প্রেমের হাওয়ায়?
বালিকা! প্রেম!-তুমি বলো, সিগারেট ছাড়া কি মানায়?
তাই লিখবো তোমায়
বারো জোড়া নয়, আমার চব্বিশ খানা পাঁজরে-
যদি 'বারো জোড়া'র চেয়ে 'চব্বিশ' তোমার বেশি লাগে!
যদি কখনো অকাল প্রেমের উটকো গন্ধে আমায়
ভুলে যাও, চলে যাও কিংবা যাও উড়ে -উদভ্রান্ত হাওয়ায়!
হয়তোবা কভু পাঁজরের ভাঁজে
তোমার অক্ষত নামটি দেখে পড়বে মনে,
কফি হাউসে মুখোমুখি বসে
গরম কফির পেয়ালায় চুমুক দিতে দিতে
কিংবা বালিতে ভাজা বাদামের খোসার শব্দে
উদ্যানের বেঞ্চে পাশাপাশি বসে-
হয়তোবা কোনদিন প্রেম জেগেছিল।
২.
শূন্যতা
শুয়ে আছি একা অযথা!
কল্পনার কাননে কিছু শুকনো পাতা
আর কিছু স্বপ্নগাঁথা!
দু'চোখ জুড়ে বলে কথা
কিছু গল্প কিংবা কিছু ছন্দহীন কবিতা!
রং ধনুতে রং নেই!
দু'চোখে ঘুম নেই!
ভোরের জানালায় দূরের আকাশ,
নীল হীনে কিছুতা হতাশ!
থমকে গেছে চঞ্চল বাতাস,
দখিন বারান্দায় দীর্ঘশ্বাস!
পুকুরে ভাসছে নিঃসঙ্গ হাঁস!
মৌচাকে মধু নেই!
হৃদয় জুড়ে প্রেম নেই!
থালার জলে সূর্যগ্রহন!
রাখাল বাঁশিতে শূন্য মোহন!
আঁধার পথিকে নিভু লণ্ঠন!
কোলাহলহীন নিস্তেজ বন!
দূরে কোত্থাও আপন জন!
কবি মনে প্রতিভা নেই!
শ্রাবণের ক্রন্দন নেই!
নেই- কিচ্ছু নেই!
প্রিয়ার দেহে আবেদন নেই!!!
৩.
বেসুরা প্রেম
তোমার স্বগতোক্তির ঘুমন্ত প্রেম
আজ ডানা মেলে উড়ে
অগত্যা আমার আকাশ জুড়ে!
আমার মধ্যবিত্ত মনের
ঠেলাগাড়ি ভালবাসার গিটারে
ছন্দ মিলবে কি তোমার সুরে?
তোমার বহুতল মনের
বিলাসী বিলাসী ভালবাসায়
আবেগ ঠাসা সোডিয়াম কাঁচের জানালায়
গ্রিল জুড়ে ল্যারিদের অবিরাম কিচিরমিচির!
আর আমার ঘুঁনেপোকা জানালায় তোমার নীড়
টিকবে কি দখিনা হাওয়ায়?
খেয়ে শুটকি মাখা ভাত
কাটাতে বর্ষার নির্ঘুম গুমোট কিছু রাত;
আমার তৈলাক্ত বালিশে-
দুর্গন্ধ ছড়ায় যদি তোমার কপোলের কোমল পালিশে?
৪.
প্রেম পদের সংযুক্তি
মধ্যাহ্নের সূর্য রশ্মি মগজে হানা প্রহরে
অনেক দূর গন্তব্যে তোমাকে হাঁটাবো;
মধ্য মাঘের কুয়াশা ঢাকা ভোরে
তোমার বস্ত্রহীন দেহে চাবুক ছুটাবো;
বুকের ওড়না প্যাঁচিয়ে শ্বাসরুদ্ধ করে
তোমায় মারবো না- শুধু কষ্ট দিবো;
মনভাঙা সীমাহীন শোকের স্বরে
কাঁদিয়ে দু’চোখের অশ্রু শুকাবো।
কষ্টের নীল শিখায় তোমাকে জ্বালাবো!
যদি সইতে পারো- তবে আসিও,
বাঁধাহীন ভালো প্রাণভরে আমায় বাসিও।
-স্বাগতম!
অন্যথায়- বলছি তোমায়,
বিদায়!
৫.
সেইসব বর্ষার জন্য
সেই শ্রাবণের শেষ সকালটায়
আমি কেঁদেছিলাম!
বিগত রাত্রির নির্ঘুম ভাবনাগুলো
ফিরেছিল যাতনা হয়ে দু'চোখের কোণায়।
ঝড়েছিল সেদিনের সেই শঙ্কিত শ্রাবণ
নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গের মত ব্যথা নিয়ে!
হয়তোবা ভেবেছিল সজল আঁখি মেলে
আমার অশ্রুসিক্ত আঁখিল মতন-
ঝড়ঝড় অবিরাম বৃষ্টিধারা
থৈ থৈ বিলে নিমজ্জিত শস্যক্ষেত
আর ভেলা ভাসানো সেইসব প্রহর-
হয়ে যায় যদি ছন্দহারা?
গ্রাম্য পুকুরে বালক-বালিকার উল্লাসেমাতা
বর্ষাস্নাত মধ্যদুপুর-
সময়ের অনিশ্চিত সাধনে
উড়ে যায় হয়ে যদি শুকনো পাতা?
সত্যি হলো তাহা, যাহা ভেবেছিলাম!
সজল চক্ষে, ব্যথিত বক্ষে
সাধেই কি সেই সকালটায়
আমি কেঁদেছিলাম?
_________________


মন্তব্যসমূহ
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন